Sunday, August 2, 2020

ওয়ারেন বাফেট এর জীবনী ও বিখ্যাত উক্তি সমূহ।

ওয়ারেন বাফেট এর জীবনী ও ৩০ টি বিখ্যাত উক্তি ওয়ারেন এডয়ার্ড বাফেট ১৯৩০ সালের ৩০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার ওমাহায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন মার্কিন বিজনেসম্যান, উদ্যোক্তা এবং সমাজকর্মী। বাফেটকে বিশ্বের সবচেয়ে সফল উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেকে তাঁকে ডাকেন ‘মিরাকল অফ ওমাহা’ নামে। বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ওয়ারেন বাফেট। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৮,৩৪০ কোটি ডলার (জুলাই ২০১৯ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎস Wikipedia)। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ওয়ারেন বাফেটের সফল হওয়ার গল্প যেমন আমাদের অনেক কিছু শেখায় তেমনি তাঁর বিখ্যাত উক্তিগুলিও আমাদের জীবনে প্রয়োগ করলে হয়তো আমাদের জীবন অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে। এসো জেনে নেই ওয়ারেন বাফেটের সেরা ৩০ টি উক্তি- #সঞ্চয় নিয়ে ওয়ারেন বাফেটের উক্তি : “খরচের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সঞ্চয় না করে বরং সঞ্চয়ের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা খরচ কর।” “যদি তুমি বিরামহীনভাবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে থাকো তবে শীঘ্রই তোমাকে প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করা শুরু করতে হবে।” #বিনিয়োগ বিষয়ে ওয়ারেন বাফেটের উক্তি : “ধনীরা সময়ের পেছনে বিনিয়োগ করে, গরীবেরা করে টাকার পেছনে।” “আমি ১১ বছর বয়সে প্রথম বিনিয়োগ করি, তার আগ পর্যন্ত আমি শুধু সময় নষ্ট করেছি।” “মানুষ নিজের পেছনে যে বিনিয়োগ করে, সেটাই তার সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ।” “কখনোই সব ডিম এক ঝুড়িতে রেখো না। অর্থাৎ একটি মাত্র ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না করে ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলো খাতে ইনভেস্ট কর, যাতে মূলধন হারানোর ঝুঁকি কম থাকে।” “আমি যা বুঝি না, তাতে কখনোই বিনিয়োগ করি না।” “সফল বিনিয়োগের জন্য দরকার সময়, শৃঙ্খলা, ধৈর্য্য।” #আত্মবিশ্বাস বিষয়ে ওয়ারেন বাফেটের কিছু বাণী : “ধীরে সুষ্ঠভাবে কাজ করা খুব সহজ। দ্রুত ধনী হওয়া সহজ নয়।” “যদি কোনকিছু ১০ বছর ধরে করার ইচ্ছে না থাকে, তবে সেটা ১০ মিনিট করাও বোকামি।” “সুনাম অর্জন করতে লাগে ২০ বছর, আর নষ্ট করতে লাগে মাত্র ৫ মিনিট। এটা মাথায় রাখলে তোমার সব কাজ অন্যরকম হবে।” “আমাকে তোমার আদর্শ ব্যক্তির নাম বলো আমি তোমার ভবিষ্যৎ বলে দেব।” “এমন বন্ধু নির্বাচন কর, যারা সবদিক দিয়ে তোমার থেকে ভালো। তাহলে তুমি একদিন সেইদিকে ধাবিত হবে।” “নিজের ভুল থেকে শেখা ভালো, অন্যের ভুল থেকে শিখতে পারলে আরও ভালো।” “তোমার আগ্রহ না থাকলে শক্তি থাকবে না, আর শক্তি না থাকলে কিছুই থাকবে না।” “সাধারণ সফল আর অসাধারণ সফলদের মধ্যে পার্থক্য হলো, অসাধারণ সফলদের না বলার ক্ষমতা অসাধারণ।” “তোমার সময়ের নিয়ন্ত্রণ যেন তোমার হাতেই থাকে; আর যতক্ষণ তুমি ‘না’ বলা না শিখছ ততক্ষণ এটা সম্ভব নয়। অন্য কাউকে তোমার জীবনের পথ ঠিক করতে দিও না।” “তুমি যদি পৃথিবীর ১% ভাগ্যবানের একজন হও, তবে বাকি ৯৯% এর উন্নতির কথা ভাবা তোমার কর্তব্য।” “আমি সবসময়েই জানতাম, আমি একদিন ধনী হব। জীবনে এক মিনিটের জন্যেও এ বিষয়ে সন্দেহ করিনি।” “তোমাকে অন্যদের চেয়ে বুদ্ধিমান না হলেও চলবে। তোমাকে শুধু অন্যদের চেয়ে কাজে বেশি ধারাবাহিক হতে হবে।” #ব্যবসা বিষয়ে ওয়ারেন বাফেটের কিছু বাণী : “ব্যবসার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আগে পেছনের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া বেশি জরুরী।” “ব্যবসার জগতে তারাই বেশি সফল, যারা তাদের সবচেয়ে ভালো লাগার কাজটি করেছে।” “যদি তুমি তোমার ব্যবসার দুর্বলতা জানো, তবে ভয় নেই। কিন্তু না জানলে ঘোর বিপদ আছে।” “কাউকে চাকরি দেওয়ার সময়ে সততা, বুদ্ধি আর কাজ করার ক্ষমতা – এই ৩ টি গুণ আছে কিনা নিশ্চিত হও। যদি সততা বাদে বাকি দু’টো অনেক বেশিও থাকে – তাকে কাজে নিও না। এর বদলে সততা পূর্ণ বোকা আর অলসদের কাজে নাও। অর্থাৎ বুদ্ধিমান আর কর্মক্ষমরা তোমার সর্বনাশ করবে।” “তোমার সময়ের নিয়ন্ত্রণ যেন তোমার হাতেই থাকে; আর যতক্ষণ তুমি ‘না’বলা না শিখছ ততক্ষণ এটা সম্ভব নয়। অন্য কাউকে তোমার জীবনের পথ ঠিক করতে দিও না।” “কর্মীদের এমনভাবে চালিত কর, যেন তোমার সাফল্যের ওপরই তাদের ভালো থাকা, খারাপ থাকা নির্ভর করে।” #জীবন সম্পর্কে ওয়ারেন বাফেটের উক্তি : “সুনাম অর্জন করতে লাগে ২০ বছর, আর নষ্ট করতে লাগে মাত্র ৫ মিনিট। এটা মাথায় রাখলে তোমার সব কাজ অন্যরকম হবে।” “যদি তুমি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পার, তবে তোমার অবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।” “যদি এমন কোনও পথ বের করতে না পার, যা তোমার ঘুমের সময়েও তোমার জন্য উপার্জন করবে, তবে তুমি মরার আগ পর্যন্ত কাজ করে যাবে।” “আমার জীবনের সেরা কাজটি ছিল, সঠিক লোকগুলোকে আদর্শ হিসেবে বেছে নিতে পারা।” #সাফল্য বিষয়ক উক্তি : “সাফল্যের সূত্র ০১ : ‘কখনোই টাকা নষ্ট করো না;সূত্র ০২ : কখনোই সূত্র ০১ ভুলো না।” “তোমার কাজে যদি দক্ষতা আর চেষ্টা থাকে, তাহলে সাফল্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।” লেখাটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো। আর এরকম লেখার আপডেট সবসময় পাওয়ার জন্য যুক্ত থাকো আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে।

Tuesday, May 26, 2020

আলেকজান্ডারের জীবন দর্শন, বিশ্ব অভিযান ও তার দিগ্বিজয়ের গল্প। মহান আলেকজান্ডার। Alexander The Great।।

আলেকজান্ডারের বিশ্ব অভিযান ও তার দিগ্বিজয়ের গল্প #AlexanderTheGreat আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট ইতিহাসে এক বহুল আলোচিত নাম। সেই সুদূর গ্রিস থেকে একের পর এক দেশ জয় করে তাঁর বাহিনী চলে এসেছিল ভারত অবধি। পারস্যের কাছে তিনি পরিচিত ইস্কান্দার বাদশাহ হিসাবে আর ভারতবর্ষে ইস্কান্দারের অপভ্রংশ সেকান্দার বাদশাহ হিসাবেও বহুল পরিচিত তিনি। দুই সহস্রাব্দ পেরিয়ে গেলেও আলেকজান্ডারকে নিয়ে বিশ্ববাসীর আগ্রহ একটুও কমেনি। আর কমবেই বা কেন? ৩২ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি জয় করেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাম্রাজ্য। শুধু তাই নয় হাতেগোনা কয়েকজন অপরাজিত জেনারেলের মধ্যেও তিনি অন্যতম। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই বীরযোদ্ধাকে নিয়ে লেখা হয়েছে আজকের ফিচারটি। #জন্ম ও বংশ পরিচয় আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের জন্ম হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসের মেসিডোনিয়াতে খ্রিস্টপূর্ব ৩৫৬ অব্দে। তবে বর্তমানে মেসিডোনিয়া একটি সম্পুর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাঁর পিতা ছিলেন মেসিডোনিয়ার রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ আর তাঁর মা ছিলেন উচ্চাভিলাষী রানী অলিম্পিয়া। আলেকজান্ডারের জীবনে তাঁর মায়ের ভূমিকা ছিল অসামান্য। ছেলেবেলা থেকেই তিনি শিশু আলেকজান্ডারকে বুঝিয়েছিলেন পারস্য জয় করার জন্য তাঁর জন্ম হয়েছে। বলা বাহুল্য অলিম্পিয়া ছিলেন ফিলিপের সাত স্ত্রীর মধ্যে চতুর্থ। অন্যদিকে অসম্ভব বিচক্ষণ এবং বীরযোদ্ধা রাজা ফিলিপ বালক আলেকজান্ডারের শিক্ষার কোন ত্রুটি করেননি। জগৎবিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টোটলকে নিযুক্ত করেছিলেন আলেকজান্ডারের শিক্ষক হিসাবে। আলেকজান্ডার আর দশজন অভিজাত গ্রীক কিশোরের মতই শিখছিলেন দর্শন, শরীরচর্চা ও যুদ্ধবিদ্যা। প্রায় তিন বছর সান্নিধ্যে থাকার পর ১৬ বছর বয়সে এরিস্টোটলের কাছে তাঁর পাঠগ্রহণ সম্পুর্ণ হয়। এরপর আলেকজান্ডার যোগ দেন পিতার সামরিক বাহিনীতে। অসম্ভব সাহসিকতার সাথে লড়েন প্রতিটি যুদ্ধে। #ক্ষমতায় আরোহণ ও উত্থান আলেকজান্ডারের উত্থান বুঝতে হলে আমাদের ধারণা থাকা দরকার তৎকালীন গ্রিসের নগর রাষ্ট্রগুলো সম্পর্কে। সে জামানায় গ্রিস একক কোন সাম্রাজ্যের অধীনে ছিলনা বরং বিভক্ত ছিল অনেকগুলো ছোট ছোট নগররাষ্ট্রে। পরাক্রমশালী পারস্য সাম্রাজ্যে বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য স্পার্টানরা ছাড়া বাকি সবাই জোটবদ্ধ হয়ে তখন সম্মিলিত বাহিনী গঠন করেছিল। আলেকজান্ডারের পিতা ছিলেন সেই সম্মিলিত বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার। মূলত তাঁর একক সামরিক প্রচেষ্টাতেই বিবাদমান নগর রাষ্ট্রগুলোকে এক ছাউনিতে আনা সম্ভব হয়েছিল। পারস্য জয় করা ছিল ফিলিপের একান্ত বাসনা। কিন্তু পারস্য অভিযানের আগেই ফিলিপ আততায়ীর হাতে নিহত হলেন। আলেকজান্ডারের বয়স যখন কুড়ি ছুই ছুই। পিতার স্থালাভিসিক্ত হতে সর্বাত্নক চেষ্টা চালালেন যুবক আলেকজান্ডার। সফলও হলেন তিনি। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৬ অব্দে বসলেন মেসিডোনিয়ার সিংহাসনে। মূলত আলেকজান্ডারের ঘটনা বহুল জীবনের বাঁক শুরু হল এখান থেকেই। মেসিডোনিয়ার মসনদে বসার পর আলেকজান্ডার আর মাত্র ১৩ বছর জীবিত ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি জয় করে নেন পারস্য, মিশর, ব্যবিলন ও ভারতের পাঞ্জাব। এদিকে ফিলিপের মৃত্যুকে কেন্দ্র গ্রিসের নগররাষ্ট্র গুলো দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ল। তরুণ আলেকজান্ডারের নেতৃত্ব মেনে নিতে চাইলনা অনেকই। আলেকজান্ডার এবার বুঝতে পারলেন বিবাদমান নগর রাষ্ট্রগুলোকে এক শিবিরে আনতে না পারলে তাঁর পিতার পারস্য জয়ের স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে যাবে। তাই আলেকজান্ডার অভিযান শুরু করলে প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে। খুব শক্ত হাতে বিদ্রোহ দমন করে অচিরেই সম্মিলিত বাহিনী প্রস্তুত করলেন পারস্য অভিযানের উদ্দেশ্যে। আলেকজান্ডারের পদাতিক সৈন্যসংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের মত আর অশ্বারোহী সৈন্য ছিল প্রায় ৬ হাজার। এছাড়া তাঁর ১২০ টি জাহাজে ছিল ৪০হাজারের মত নাবিক ও মাঝি মাল্লা। #পারস্য অভিযান পারস্য অভিযানের আগে চতুর আলেকজান্ডার অভিযান চালালেন বলকান অঞ্চলে। উদ্দেশ্যে পারস্য প্রবেশের পথটা একদম পরিষ্কার করা। বলে রাখা ভাল আলেকজান্ডারের পারস্য বিজয় একদিনে কিংবা একটি যুদ্ধে সম্ভব হয়নি। আসলে সেটি হওয়ার কথাও না। কারণ পারস্য সাম্রাজ্যের মত বিশাল সাম্রাজ্যকে পদানত করা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। এশিয়া মাইনর অর্থাৎ বর্তমান তুরস্কে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে পারসিয়ানদের সাথে জেতার পর আলেকজান্ডার মিশর দখলের উদ্দেশ্যে প্রায় বিনা বাঁধায় এগিয়ে যেতে থাকেন। যদিও সে যুগে মিশর আর আগের মিশর ছিলনা। অতীত জৌলুস হারিয়ে মিশর তখন পারস্য সাম্রাজ্যের সামান্য অংশ মাত্র। তবে মিশরে প্রবেশের পথে বর্তমান ফিলিস্তিনের গাজায় শক্তিশালী বাঁধার সম্মুখীন হন আলেকজান্ডার। যদিও গাজা জয় করার পর নির্বিচারে পুরুষদের হত্যা ও নারীদের বন্দীর নির্দেশ দিয়ে অত্যন্ত হঠকারিতার পরিচয় দিয়েছিলেন আলেকজান্ডার। গাজা জয়ের পর টায়ার নগর অবরোধ করেন তিনি। টায়ারের পরিণতিও হয়েছিল গাজার মতই। আলেকজান্ডার মিশরে পৌঁছালে তাঁকে মিশরের নতুন ফারাও ঘোষণা করা হয়। তারপর শুরু হয় পারস্যের বিরুদ্ধে তাঁর মূল অভিযান। বেশ কয়েকটি যুদ্ধের পর খ্রিস্টপূর্ব ৩৩১ অব্দে অবশেষে বিখ্যাত গগোমেলার যুদ্ধে পারস্যের রাজা তৃতীয় দারিয়ুস চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন আলেকজান্ডারের কাছে। পরাজিত দারিয়ুস সাম্রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যান পরে তার সেনাপতিরাই তাকে হত্যা করে। #আলেকজান্ডারের ভারত অভিযান পারস্য বিজয়ে পর খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রম করে আলেকজান্ডার ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন। ভারতবর্ষের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। সে সময় উত্তর-পশ্চিম ভারত অনেকগুলো পরস্পর বিবাদমান ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল । প্রথমে আলেকজান্ডার পুষ্কলাবতীর রাজা অষ্টককে, তারপর অশ্বক জাতিকে পরাজিত করেন। অন্যদিকে তক্ষশীলার রাজা তার নিকট স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন কিন্তু ঝিলামের রাজা পুরু তাঁর বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে পরাজিত ও বন্দী হন। বন্দী পুরু ও আলেকজান্ডারের ঘটনা তো সর্বজনবিদিত। সবমিলিয়ে ভারতবর্ষে প্রায় ১৯ মাসের মত ছিলেন আলেকজান্ডার। এদিকে দীর্ঘদিন মাতৃভূমির বাইরে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী আর সামনে অগ্রসর হতে চাইলনা। তাই বাধ্য হয়ে তিনি ফিরে গেলেন পাঞ্জাব থেকে। ফেরার পথে বিজিত অঞ্চলগুলোতে শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য কিছুদিন করে অবস্থান করেন আলেকজান্ডার। পথিমধ্যে ব্যাবিলনে থাকা অবস্থায় নেবুচাদনেজারের প্রাসাদে অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর পর আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্য তাঁর ৭ জন সেনাপতি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। ভারত পড়েছিল সেনাপতি সেলুকাসের ভাগে। তবে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্থানের কারণে ভারতবর্ষে গ্রিক শাসন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। #আলেকজান্ডার মৃত্যু আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের মৃত্যু আজও এক বিরাট রহস্য। আমরা এমন এক সময়ের কথা বলছি যখন না ছিল আজকের মত উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, না ছিল উন্নত মানের ফরেন্সিক টেস্ট। তাই ঠিক কি কারণে আলেকজান্ডারের মৃত্যু হয়েছিল তা বলা দুষ্কর। এই ব্যাপারে দুটি মত প্রচলিত। প্রথমটি হল ম্যালেরিয়া দ্বিতীয়টি হল বিষ প্রয়োগে মৃত্যু। তবে প্রথমটির পক্ষেই বেশি সমর্থন পাওয়া যায়। মৃত্যুর আগে আলেকজান্ডার দুই সপ্তাহের মত শয্যাশায়ী ছিলেন। অবশেষে ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ১০ বা ১১ জুন পরলোকগমন করেন দিগ্বিজয়ী এই মহাবীর। #যেখানে অনন্য আলেকজান্ডার আলেকজান্ডার ইতিহাসে কেন অনন্য? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের চলে যেতে হবে প্রাচীন পৃথিবীতে। ইতিহাসে কেবল একজন মানুষই আলেকজান্ডারের চেয়েও বেশি এলাকা জয় করতে পেরে ছিলেন আর তিনি হলেন চেঙ্গিস খান। আলেকজান্ডারের মত চেঙ্গিসও ছিলেন একজন অপরাজিত জেনারেল। আলেকজান্ডার যেমন বিবাদমান গ্রীক নগর রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন ঠিক তেমনি তাঁর ১৫০০ বছর পরে জন্ম নেওয়া চেঙ্গিস ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন মঙ্গোলিয়ার বিবাদমান ছোট ছোট গোত্রগুলোকে। তবে আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল চেঙ্গিস খানের সাম্রাজ্যের প্রায় অর্ধেক। শুধু তাই নয় উত্তরাধিকারী না থাকায় আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্য তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথেই ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে চেঙ্গিসের উত্তরাধিকারীরা সাফল্যের সাথে পিতার সাম্রাজ্যকে আরও অনেক দূর পর্যন্ত প্রসারিত করেছিল। এই পর্যায়ে একটি প্রশ্ন চলে আসে তাহলে কে বেশি সফল? আলেকজান্ডার না চেঙ্গিস? উত্তর সহজ নয়। প্রাচীন গ্রিস ও রোমের সাথে পারস্য সাম্রাজ্যের প্রায় এক সহস্রাব্দের অধিক সময় জুড়ে চলামান বিবাদে একমাত্র আলেকজান্ডারই পেরেছিলেন সম্পুর্ণভাবে পারস্যকে পদানত করতে যেটা করে দেখাতে পারেননি আর অন্য কোন ইউরোপীয় জেনারেল কিংবা সম্রাট। শুধু তাই নয় পারস্য হয়ে আলেকজান্ডার চলে এসেছিলেন সোজা ভারতে যা পরবর্তী ২০০০ বছরে অর্থাৎ ইংরেজদের আগে আর কেউ পারেনি। চেঙ্গিস খানের ইতিহাস ঘাটলে ধ্বংস ও মৃত্যু ছাড়া অন্য কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রায় ৪ কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য চেঙ্গিস প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। বেইজিং, উরগেঞ্জ, সমরখন্দের মত শহর সম্পুর্ণ ধ্বংস হয়েছিল তার তান্ডবলীলায়। অন্যদিকে আলেকজান্ডার শুধু বিজেতাই নন, বিচক্ষণ শাসকও। তবে ফিলিস্তিনের গাজা, টায়ার ও অন্যান্য কিছু শহরে আলেকজান্ডারও ভয়ানক গণহত্যা চালিয়েছেন। কিন্তু একটি কথা অনস্বীকার্য নতুন দেশ জয় করে তিনি সেদেশের সভ্যতা ধ্বংস করেননি বরং আত্মীকরণ করেছেন তাদের সংস্কৃতি। যেমন পারস্য জয়ের পর আলেকজান্ডারকে দেখা গেছে পারসিয়ান পোশাকে কিংবা ভারতের রাজা পুরুর সাথে গড়ে উঠেছিল তাঁর সখ্যতা। সবমিলিয়ে আলেকজান্ডার সেতু বন্ধন রচনা করেছিলেন প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের। ভারত, পারস্য ও গ্রীক এই তিনটি মহান সভ্যতার সম্মিলন খুব অল্প সময়ের জন্য সম্ভব হয়েছিল তাঁর বিজয়াভিযানের ফলে। তাই ইতিহাসে আলেকজান্ডার এত অনন্য, এত বেশি আলোচিত।

Saturday, December 21, 2019

জীবনে ভালোভাবে বেচে থাকার জন্য কি দরকার হয়?

জীবনে ভালোভাবে বেচে থাকার জন্য কি দরকার হয়? একজন জিজ্ঞেস করলো জীবনে ভালোভাবে বেচে থাকার জন্য কি দরকার হয়? প্রশ্নটা অনেক জটিল মনে হলেও অনেক সহজ। জীবনকে আমরা কখনই জীবনের মত ভাবতে শিখিনা। জীবনকে আমরা সিনেমার মত মনে করি বলে এসব প্রশ্নের উত্তর খুজে ফিরি। অবশ্য উত্তর দিয়েছিলাম একটি সুস্থ্য মন দরকার, সুস্থ্য মনকে সুস্থ্য রাখতে পারে এমন একটি মানসিকতা দরকার, আর জীবনকে বুঝে চলার অভ্যস থাকা দরকার। আপনি যখন জীবনে অন্যর মত হওয়ার চেষ্টা করবেন তখনি সমস্যা শুরু হবে। প্রত্যেকটি মানুষের জীবন এক একটি গল্প। এই গল্পগুলো কখনই এক হয় না। কারন গল্পের উপকরন গুলো এক থাকেনা। কিন্তু আমরা বরাবরই মিলাতে চাই। তুলনা করতে চাই, অন্যের মত পেতে চাই, হতে চাই। এসবে নিজের মধ্যে মনস্তাত্তিক দ্বন্দ্ব তৈরী করে ফলশ্রুতিতে আমরা মন নামক একটি সুন্দর নদীর স্বাভাবিক গতি পথে বাধার তৈরী করি ফলে মন অশান্ত হয়ে উঠে, ঝড় উঠে বৃষ্টি ঝড়ে। ভালো থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের মত করে নিজের ভূবনটাকে নিয়ে পথ চলা, নিজের মন নামক নদীকে নিজের বিবেক নামক শাসকের অধিনে নিয়ে গিয়ে মন নামক নদীর গতিকে স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূখকে মানুষের জন্য সৃষ্ট করেছেন। আল্লাহ চান সবাই সূখী হোক। ভালো থাকতে সবাই পারে না। ভালো থাকতে কিভাবে হয় সেটি রেল লাইনের ধারে পড়ে থাকা পুড়াতন কোন বগিতে বসবাসরত শিশুদের মুখের হাসির দিকে তাকালে উপলব্ধি করা যায় কিংবা রাস্তার পথশিশুদের মুখের হাসি কিংবা গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া মানুষগুলো মুখের হাসির দিকে তাকালেই উপলব্ধি করা যায়। আসলে সূখ কিসে পাওয়া। ভালো থাকা কারে কয়। যারা এই হাসি গুলোর মধ্যে সূখ খুজে পায়না তারা যত বড়ই হোক না কেন, বাহিরে তাদের ভূড়ি ভূড়ি থাকনা কেন তাদের মনে সূখ বলে কিছু নেই। যখন আপনি কাজ শেষে রাতের বেলা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, সেদিন ভাববেন আপনি ভালো আছেন। যখন দেখবেন চিন্তায় আপনার ঘুম আসছেনা তখন জানবেন আপনি এমন কিছু আশা করছেন যা আপনার সাধ্যের বাহিরে কিংবা আপনি তার জন্য নিজেকে তৈরী করেননি। সুস্থ্য চিন্তা মানুষকে সফল করে তোলে, অসুস্থ্য চিন্তা মানুষকে করে তোলে রোগী। সুস্থ্য চিন্তা মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে দেয়, অসুস্থ্য চিন্তা বিনিদ্র রজনী পাড় করে আপনার হৃদয়ে ভয়ংকর রোগের বাসা তৈরি করে। সবশেষে যখন আপনি আপনার মত করে আপনাকে আবিষ্কার করতে পারবেন সেদিন আপনি ভালো থাকার উপায় পেয়ে যাবেন। পৃথিবীর অনেক কিছুই সিনেমার মত। মেকি, ছলনা আর অভিনয়ে ভরপুর এই জীবন। এটাই জীবন। মানুষকে ফেরেস্তা ভাবতে গেলে যেমন আপনি অসুখী হবেন, তেমনি জীবনটাকে আপনার মত করে চাইলেও অসুখী হবেন। যা আছে তাই নিয়ে সুখী থাকুন, নিজের সময়টাকে কাজে লাগিয়ে নিজের সামর্থ্যর সবটুকু ব্যবহার করে নিজের মত করে সফল হোন এবং সেটাকেই আপনার প্রাপ্য ভাবুন ভালো থাকবেন। দুনিয়ার সবাই সুখী হোক, ভালো থাকুক!

Sunday, May 5, 2019

রাজার_দুধের_পুকুর। #বেশি_চাইলে_যা_হয়। #Fact_Bangladesh

#রাজার_দুধের_পুকুর। #বেশি_চাইলে_যা_হয়। #Fact_Bangladesh একদা এক রাজা তার লোকদের একটি দিঘি খনন করতে বলল। দিঘীটা খনন করা হলে রাজা ঘোষনা করে দিল রাজ্যের প্রতিটি ঘর থেকে এক গ্লাস করে দুধ নিয়ে আসতে হবে। আর রাতে তা দিঘীতে দিতে হবে। সকালে রাজা দেখতে চায় তার দিঘী দুধ দিয়ে পূর্ণ হয়েছে। রাজার এ আদেশ শুনে প্রত্যেকে নিজ নিজ ঘরে ফিরে এল। এক লোক রাতে রাজার পুকুরে দুধ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সময় তার মাথায় এক চিন্তা এল। সে ভাবল। যেহেতু সবাই রাজার পুকুরে এক গ্লাস করে দুধ দিবে। আমি যদি দুধের পরিবর্তে এক গ্লাস পানি দিই তাহলে কেউ এটা ধরতে পারবে না। কারণ সবাই গভীর রাতে দুধ দেবে। রাতের অন্ধকারে আমি কি দিচ্ছি তা কেউ বুঝতে পারবে না । সবাই মনে করবে আমি দুধই দিচ্ছি। এই চিন্তা করে লোকটি মনে মনে ভাবল আমি দুধের পরিবর্তে পানিই দেব। রাতে সে তাড়াতাড়ি গিয়ে এক গ্লাস পানি রাজার পুকুরে দিয়ে আসলো। পরদিন রাজা তার দুধের পুকুর দেখতে এল। একি পুকুর পানিতে ভর্তি। দুধের কোন চিহ্ন এখানে দেখা যাচ্ছে না। রাজার পুকুর পানিতে পূর্ণ। আসলে প্রতিটি লোকই ভেবেছিল অন্য একজনে দুধ দেবে তাই আমি পানি দিই। এভাবেই রাজার পুকুর পানিতে পূর্ণ হয়ে গেল।

Sunday, April 21, 2019

বন্ধুর প্রেমে বন্ধু

বন্ধুর প্রেমে বন্ধু একদা রাতের বেলায় আমার এক প্রিয় বন্ধু হঠাত এসে আমার সামনে হাজির। সে ছিল আমার পরম প্রিয়পাত্র। কালের কুটিল বিবর্তনে বহুদিন ধরে তার বিরহ বিচ্ছেদে আমি বিশেষভাবে বেদনাবোধ করছিলাম এবং অধীর আগ্রহে তার আগমন প্রতিক্ষায় প্রহর গুণছিলাম। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে প্রিয় পাত্রকে পাশে পেয়ে আনন্দে আত্নহারা হয়ে গেলাম এবং এত দ্রুত আসন ছেড়ে উঠে বন্ধুকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম যে, আমার আমার জামার আস্তিনের ঝাপটা লেগে আলোটা নিভে গেল। বন্ধু! আমার পাশে বসেই আমাকে তিরষ্কার করতে শুরু করল। বললঃ বন্ধু! আমাকে দেখেই আলো নিভিয়ে দিলে কারণ কি? বললামঃ ভাই, দুটো কারণে আলো নিভিয়েছিঃ প্রথম কারন এই যে, তুমি ভিতরে আসার সাথে সাথে আমার মনে হল সূর্য যেন উদয় হয়েছে। তোমার আলোকে ঘর ঝলমল করছে। কাজেই আলো রাখার প্রয়োজন নেই। আর দ্বিতীয় কারনঃ আমার দুটো লাইন কবিতা মনে পড়ে গেলঃ “যদি দেখ হাসি মাখা মুখে প্রিয়জন ঘরে এলো। তারে হাত ঘরে বসাও আদরে আলোটা নিভিয়ে ফেলো।” শিক্ষাঃ মানুষ পুরনো বন্ধুকে পেয়ে আত্নহারা হয়ে যায়। পুরনো বন্ধুকে পেলে হারানো অনেক কথা হৃদয়পটে জেগে উঠে। মনে হয় যেন অমাবশ্যার রাতে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে।

Thursday, April 18, 2019

অপাত্রে দয়ার পরিনাম

অপাত্রে দয়ার পরিনাম..... আরব দেশের একদল দুর্ধর্ষ দস্যু এক গিরিপথের পাশে ঘাঁটি করে থাকত এবং সুযোগ মত পথিকদের কাফেলা আক্রমণ করে লুটতরাজ করত। আশেপাশের বাসিন্দারাও তাদের আক্রমণ ও অত্যাচার থেকে রেহাই পেত না। ফলে সেই গিরিপথ দিয়ে লোক চলাচল এবং বণিকদের ব্যবসা বন্ধ হবার উপক্রম হলো। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের ভয়ে সর্বদা ভীত সন্ত্রস্থ থাকত। বাদশার সেনাবাহিনী যথেষ্ট চেষ্টা করেও তাদেরকেও দমন করতে সমর্থ হল না। কারণ তাদের আশ্রয়স্থল পাহাড়ের ওপরে এমন নির্ভত জংগলের মধ্যে অবস্থিত ছিল, যা খুঁজে বের করা এবং তাদেরকে গ্রেফতার করা সহজ সাধ্য ছিল না। অথচ প্রজাসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার খাতিরে এই দস্যুদেরকে নির্মল করা আশু প্রয়োজন। দেশের চিন্তাশীল নেতৃবৃন্দ ভাবলেন, এভাবে এদেরকে আরো কিছু দিন প্রশ্রয় দিলে এরা আরো শক্তিশালী হবে, তখন এদের মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শ সভা বসল। স্থির হল, একদল অভিজ্ঞ গুপ্তচর তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে তাদের আড্ডা আবিষ্কার করবে। তারপর সাহসী দূরদর্শী এবং সমর কুশল একদল সৈন্য ওদের ঘাঁটির আশেপাশের জংগলে খুব সাবধানে লুকিয়ে থাকবে। যখন ওরা ডাকাতি শেষে ঘাঁটির ফিরবে এবং লুট করা মাল ও আস্ত্রশস্ত্র খুলে রেখে ঘুমিয়ে পড়বে , তখন তারা গুপ্তস্থান থেকে হঠাত ওদেরকে ঘিরে ফেলবে। যেমন কথা, তেমনি কাজ। যথাসময়ে দস্যুদেরকে বন্দী করে রাজদরবারে আনা হলো। বাদশা তাদের সবাইকে হত্যা করার হুকুম দিলেন। দস্যুদের মধ্যে কচি বয়সের একটা ছেলেও ছিল। তার চেহারা ছিল যেমন সুন্দর, স্বাস্থ্যও ছিল তেমনি ভালো। দেখলে মনে হয় ভদ্র পরিবারের সন্তান। ছেলেটার প্রিয়দর্শন চেহারা দেখে একজন মন্ত্রীর প্রাণে স্নেহের সঞ্চার হলো, এমন সুন্দর একটা কিশোর বালককে হত্যা করতে তার মন কিছুতেই সায় দিচ্ছিল না। তিনি বাদশার সামনে নতজানু হয়ে করজোড়ে নিবেদন করলেনঃ জাঁহাপানা! দয়া করে যদি এ ছেলেটার প্রাণ ভিক্ষা দিতেন, তবে বান্দা চিরকৃতজ্ঞ ও বাধিত হত। হুজুরের অনুমতি পেলে আমি তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতাম। মন্ত্রীর সুপারিশে বাদশা বিরক্ত হলেন। তার রাজোচিত মার্জিত বুদ্ধিতে কাজটা সঙ্গত মনে হলো না। কারণ, বংশগত মন্দ স্বভাব সুশিক্ষায় পরিবর্তিত হয় না। তিনি মন্তব্য করলেনঃ “নিচ বংশে জন্ম যার নিচ তার মন, সুশিক্ষায় ভালো তা যে হয় না কখন। অধমের শিক্ষাদান সার্থক না হয়, গম্বুজের পরে যেমন ঢিল নাই রয়।“ এই দুষ্টু বদমায়েশদেরকে সমুলে বিনাশ করাই উত্তম। আগুন নিভিয়ে ফুলকি রেখে দেয়া বা সাপ মেরে তার বাচ্চা পোষা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। মন্ত্রী মহোদয় সবকিছু শুনলেন এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভদ্রতার খাতিরে বাদশার কথা সমর্থন করলেন। বাদশার সুচিন্তিত অভিমতের ভুয়সী প্রশংসাও করলেন। সঙ্গে সঙে এও বললেনঃ হুজুর যা বলেছেন, তা বাস্তব সত্য। দস্যুদলে থেকে ছেলেটা বড় হলে পরিণামে দস্যু হতো। কিন্তু আমার মনে হয়, ছেলেটার একেবারে কচি বয়স। জীবন যৌবনের স্বাধ এখনও পায়নি। কোনও প্রকারের পাপের কালিমা এখনও তার স্বচ্ছ অন্তঃকরণকে মলিন করেনি। ওদের জাতীয় নির্মম হিংস্র স্বভাবের মোহ আজো ওর কচি মনে দাগ কাটেনি। ফেরেশতার মত নিষ্পাপ কোমলমতি বালক। এখন থেকে যদি ওকে সুশিক্ষা দেয়া হয় এবং আমাদের মার্জিত ভদ্র পরিবেশে রেখে ভদ্রতা, মানবতা ও আদব-কায়দা শেখান হয়, তবে নিশ্চয় জ্ঞানী ও চরিত্রবান হবে। সৎ সংগে স্বভাব পরিবর্তনের সময় এখনও তার রয়েছে। হাদীস শরীফে আছেঃ প্রত্যেক শিশু প্রকৃতিগতভাবে সৎ মুসলিম হয়েই ভূমিষ্ঠ হয়। পরে পিতামাতা তাকে নিজ নিজ ধর্মের বিধান শিক্ষা দেয়। বাবা-মা ইহুদি হলে ইহুদি, খ্রিষ্টান হলে খ্রিষ্টান এবং অগ্নি উপাসক হলে অগ্নি উপাসক দলভুক্ত হয়। ভাল লোকের সংশ্রবে থেকে কত মন্দলোক ভালো হয়ে যায়। আবার মন্দ লোকের সংশ্রবে থেকে কত ভালো লোকও মন্দ হয় যায়। “নবীর পুত্র হলো কাফের মিশে সে কাফের সনে, কুকুর সে পেল মানুষের মান সত্যের অনুগমনে।‘ মন্ত্রীমহোদয়ের যুক্তিপূর্ণ মন্তব্য শুনে সভাসদ্গণের অনেকে তার পক্ষ সমর্থন করলেন এবং তার সাথে ছেলেটার মুক্তির আবেদন জানালেন। অগ্যতা বাদশাহ তার দন্ডাদেশ মওকুফ করে দিলেন এবং বললেনঃ আপনাদের অনুরোধে ওকে ক্ষমা করলাম বটে। কিন্তু কাজটা আমার বিবেচনায় সঙ্গত মনে হলো না। কারন জ্ঞানি লোকেরা বলে গেছেনঃ শত্রুকে অক্ষম মনে করে তুচ্ছ করা উচিত নয়। সঙ্কীর্ন পয়ঃপ্রণালী অনেক সময় বিরাট নদীতে পরিণত হতে দেখা গেছে। মন্ত্রীমহোদয় আদর করে ছেলেটাকে বাড়ি নিয়ে এলেন এবং পরম যত্নে প্রতিপালিত করতে লাগলেন। তার সুশিক্ষার জন্য উপযুক্ত শিক্ষক নিযুক্ত করা হলো। ছেলেটা খুব মেধাবী ও হুঁশিয়ার ছিল। নিজ প্রতিভা বলে অল্প দিনের মধ্যে সে লেখাপড়ায় বেশ উন্নতি দেখাতে লাগল। জ্ঞান-বুদ্ধি স্বভাব চরিত্র ও ভদ্র ব্যবহারে সে সবার প্রিয় পাত্র হয় উঠল। শাহী দরবারের আদব-কায়দা ও চালচলনে সে বেশ অভ্যস্ত হলো। একদা মন্ত্রীমহোদয় রাজদরবারে কথা প্রসঙ্গে ওই ছেলেটার গুণকীর্তন করে বললেনঃ সুশিক্ষা ওর ভেতর এমনি তাছির করেছে যে, তার পৈত্রিক অসভ্য স্বভাব একদম দূরীভূত হয়ে গেছে। বাদশা একটু মুচকি হেসে বললেনঃ পরিণামে শৃগাল বাচ্চা শৃগালই রয়, যদিও সে লোকালয়ে সুশিক্ষিত হয়। এভাবে কয়েকটা দিন গড়িয়ে গেল। গতিশীল দুনিয়ার চিরন্তন নিয়মে সেই বালকও যৌবনে পদার্পন করলো। মন্ত্রীর পালক পুত্র হিসেবে সবাই তাকে সমীহ করে চলে। তার বন্ধুবান্ধবেরও অভাব নেই। দেশের ভেতর একদল দুষ্কৃতিকারী ছিল। ওই যুবক গোপনে গোপনে কবে তাদের হাতে হাত মিলিয়েছে তা কেউই টের পায়নি। একদিন সময় সুযোগমত সকল কৃতজ্ঞতার বন্ধন ছিন্ন করে সে তার প্রতিপালক মন্ত্রীকে ও তার উভয় পুত্রকে হত্যা করে তাদের সকল ধনসম্পদ নিয়ে দস্যু দলে ভিড়ে গেল এবং শহর ছেড়ে সেই পাহাড়ের ঘাঁটিতে গিয়ে বাবার স্থান অধিকার করে বসলো। এই সংবাদ শুনে বাদশা আক্ষেপ করে বললেনঃ “নিকৃষ্ট লোহায় কভু হয়না তলোয়ার, ইতর শেখে না কভু ভদ্র ব্যবহার। বরষার বারি ঝরে সর্বত্র সমান, কোথাও আগাছা জন্মে কোথা ফলে ধান। লোনা জমি নেবে নাকো সোনার ফসল, মেহনত যতই কর সকলই বিফল। ভালোদের ক্ষতি করা অন্যায় যেমন, মন্দদের হিত করা দোষের তেমন।‘ শিক্ষাঃ ইবলিসের ঔরষে ইবলিসই জন্ম হয়। সেখান থেকে ফেরেশতা বা মানুষ পয়দা হওয়ার চিন্তা করা যায় না। শত্রুর সন্তান চির শত্রুই হয়, তাকে দুধ কলা দিয়ে পোষা মানে শত্রুকে বলিষ্ঠ করে তোলা। জ্ঞানী লোকেরা কখনও আগুন নিভিয়ে ফুলকি রাখে না অথবা সাপ মেরে তার বাচ্চা পোষে না। পাপী লোকের সন্তানের মধ্যে এক সময় পাপের কালিমার বীভৎস রূপ ফুটে উঠবেই, তাকে সতই সাধু প্রকৃতির লোক মনে হোক না কেন। শুকরের বাচ্চা শুকরই হবে, যতই তাকে পোষা হোক না কেন, সুযোগ পেলে সে মলমূত্রে অবস্থান করবেই।

অন্যায়ের_উৎস । গল্প_ও_বাস্তবতা_বাংলাদেশ_প্রেক্ষাপট

#অন্যায়ের_উৎস #গল্প_ও_বাস্তবতা_বাংলাদেশ_প্রেক্ষাপট বিখ্যাত ন্যায়পরায়ন বাদশা নওশেরোয়া একবার জংগলে হরিণ শিকারে গিয়েছিলেন। হরিণ শিকার করে তার মাংস দিয়ে কাবাব তৈরী করতে হুকুম দিলেন। ঘটনাক্রমে তাদের সঙ্গে লবণ ছিল না। লবণ আনার জন্য এক ভৃত্যকে গ্রামে পাঠানো হলো। বাদশাহ বলে দিলেনঃ খবরদার লবণ যেন দাম দিয়ে কিনে আনা হয়। আমার খাতিরে কেউ যদি খুশি হয়ে দেয়, তবুও বিনা মূল্যে আনবে না। তাতে একটা কুপ্রথা চালু হয়ে যাবে। সঙ্গীরা বললেনঃ সামান্য একটু লবণ আনবেন তাতে কি এমন মারাত্নক ক্ষতি হবে। বাদশাহ বললেনঃ অন্যায়ের ভিত্তি প্রথমত খুব ক্ষুদ্রই থাকে। পরে যে আসে সে একটু বাড়ায়, এমনি করে গোটা দুনিয়া অন্যায়ে ছেয়ে যায়। “রাজা যদি খায় প্রজার গাছের একটি মাত্র কুল, ভৃত্যেরা তার ফেলিবে উপড়ি সেই বৃক্ষের মূল। বাদশা অর্ধেক ডিমও যদি কারো অন্যায় ভাবে লয়। হাজার মুরগি জোর করে নিতে সেনারা পাবে না ভয় শিক্ষাঃ রাজা বাদশাহরা মোবাহ কাজ করলে প্রজা সাধারণ তা ফরযের ন্যায় করার জন্য উতসাহবোধ করে। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোন ছোট গুনাহ করলে সধারণ লোকেরা তা দ্বিগুন উতসাহের সাথে করতে থাকে। তাই তাদের এমন কোন অপরাধ করা উচিত নয়; যা সাধারন মানুষকে পাপের দিকে ধাবিত করে।