Saturday, December 21, 2019

জীবনে ভালোভাবে বেচে থাকার জন্য কি দরকার হয়?

জীবনে ভালোভাবে বেচে থাকার জন্য কি দরকার হয়? একজন জিজ্ঞেস করলো জীবনে ভালোভাবে বেচে থাকার জন্য কি দরকার হয়? প্রশ্নটা অনেক জটিল মনে হলেও অনেক সহজ। জীবনকে আমরা কখনই জীবনের মত ভাবতে শিখিনা। জীবনকে আমরা সিনেমার মত মনে করি বলে এসব প্রশ্নের উত্তর খুজে ফিরি। অবশ্য উত্তর দিয়েছিলাম একটি সুস্থ্য মন দরকার, সুস্থ্য মনকে সুস্থ্য রাখতে পারে এমন একটি মানসিকতা দরকার, আর জীবনকে বুঝে চলার অভ্যস থাকা দরকার। আপনি যখন জীবনে অন্যর মত হওয়ার চেষ্টা করবেন তখনি সমস্যা শুরু হবে। প্রত্যেকটি মানুষের জীবন এক একটি গল্প। এই গল্পগুলো কখনই এক হয় না। কারন গল্পের উপকরন গুলো এক থাকেনা। কিন্তু আমরা বরাবরই মিলাতে চাই। তুলনা করতে চাই, অন্যের মত পেতে চাই, হতে চাই। এসবে নিজের মধ্যে মনস্তাত্তিক দ্বন্দ্ব তৈরী করে ফলশ্রুতিতে আমরা মন নামক একটি সুন্দর নদীর স্বাভাবিক গতি পথে বাধার তৈরী করি ফলে মন অশান্ত হয়ে উঠে, ঝড় উঠে বৃষ্টি ঝড়ে। ভালো থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের মত করে নিজের ভূবনটাকে নিয়ে পথ চলা, নিজের মন নামক নদীকে নিজের বিবেক নামক শাসকের অধিনে নিয়ে গিয়ে মন নামক নদীর গতিকে স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূখকে মানুষের জন্য সৃষ্ট করেছেন। আল্লাহ চান সবাই সূখী হোক। ভালো থাকতে সবাই পারে না। ভালো থাকতে কিভাবে হয় সেটি রেল লাইনের ধারে পড়ে থাকা পুড়াতন কোন বগিতে বসবাসরত শিশুদের মুখের হাসির দিকে তাকালে উপলব্ধি করা যায় কিংবা রাস্তার পথশিশুদের মুখের হাসি কিংবা গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া মানুষগুলো মুখের হাসির দিকে তাকালেই উপলব্ধি করা যায়। আসলে সূখ কিসে পাওয়া। ভালো থাকা কারে কয়। যারা এই হাসি গুলোর মধ্যে সূখ খুজে পায়না তারা যত বড়ই হোক না কেন, বাহিরে তাদের ভূড়ি ভূড়ি থাকনা কেন তাদের মনে সূখ বলে কিছু নেই। যখন আপনি কাজ শেষে রাতের বেলা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, সেদিন ভাববেন আপনি ভালো আছেন। যখন দেখবেন চিন্তায় আপনার ঘুম আসছেনা তখন জানবেন আপনি এমন কিছু আশা করছেন যা আপনার সাধ্যের বাহিরে কিংবা আপনি তার জন্য নিজেকে তৈরী করেননি। সুস্থ্য চিন্তা মানুষকে সফল করে তোলে, অসুস্থ্য চিন্তা মানুষকে করে তোলে রোগী। সুস্থ্য চিন্তা মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে দেয়, অসুস্থ্য চিন্তা বিনিদ্র রজনী পাড় করে আপনার হৃদয়ে ভয়ংকর রোগের বাসা তৈরি করে। সবশেষে যখন আপনি আপনার মত করে আপনাকে আবিষ্কার করতে পারবেন সেদিন আপনি ভালো থাকার উপায় পেয়ে যাবেন। পৃথিবীর অনেক কিছুই সিনেমার মত। মেকি, ছলনা আর অভিনয়ে ভরপুর এই জীবন। এটাই জীবন। মানুষকে ফেরেস্তা ভাবতে গেলে যেমন আপনি অসুখী হবেন, তেমনি জীবনটাকে আপনার মত করে চাইলেও অসুখী হবেন। যা আছে তাই নিয়ে সুখী থাকুন, নিজের সময়টাকে কাজে লাগিয়ে নিজের সামর্থ্যর সবটুকু ব্যবহার করে নিজের মত করে সফল হোন এবং সেটাকেই আপনার প্রাপ্য ভাবুন ভালো থাকবেন। দুনিয়ার সবাই সুখী হোক, ভালো থাকুক!

Sunday, May 5, 2019

রাজার_দুধের_পুকুর। #বেশি_চাইলে_যা_হয়। #Fact_Bangladesh

#রাজার_দুধের_পুকুর। #বেশি_চাইলে_যা_হয়। #Fact_Bangladesh একদা এক রাজা তার লোকদের একটি দিঘি খনন করতে বলল। দিঘীটা খনন করা হলে রাজা ঘোষনা করে দিল রাজ্যের প্রতিটি ঘর থেকে এক গ্লাস করে দুধ নিয়ে আসতে হবে। আর রাতে তা দিঘীতে দিতে হবে। সকালে রাজা দেখতে চায় তার দিঘী দুধ দিয়ে পূর্ণ হয়েছে। রাজার এ আদেশ শুনে প্রত্যেকে নিজ নিজ ঘরে ফিরে এল। এক লোক রাতে রাজার পুকুরে দুধ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সময় তার মাথায় এক চিন্তা এল। সে ভাবল। যেহেতু সবাই রাজার পুকুরে এক গ্লাস করে দুধ দিবে। আমি যদি দুধের পরিবর্তে এক গ্লাস পানি দিই তাহলে কেউ এটা ধরতে পারবে না। কারণ সবাই গভীর রাতে দুধ দেবে। রাতের অন্ধকারে আমি কি দিচ্ছি তা কেউ বুঝতে পারবে না । সবাই মনে করবে আমি দুধই দিচ্ছি। এই চিন্তা করে লোকটি মনে মনে ভাবল আমি দুধের পরিবর্তে পানিই দেব। রাতে সে তাড়াতাড়ি গিয়ে এক গ্লাস পানি রাজার পুকুরে দিয়ে আসলো। পরদিন রাজা তার দুধের পুকুর দেখতে এল। একি পুকুর পানিতে ভর্তি। দুধের কোন চিহ্ন এখানে দেখা যাচ্ছে না। রাজার পুকুর পানিতে পূর্ণ। আসলে প্রতিটি লোকই ভেবেছিল অন্য একজনে দুধ দেবে তাই আমি পানি দিই। এভাবেই রাজার পুকুর পানিতে পূর্ণ হয়ে গেল।

Sunday, April 21, 2019

বন্ধুর প্রেমে বন্ধু

বন্ধুর প্রেমে বন্ধু একদা রাতের বেলায় আমার এক প্রিয় বন্ধু হঠাত এসে আমার সামনে হাজির। সে ছিল আমার পরম প্রিয়পাত্র। কালের কুটিল বিবর্তনে বহুদিন ধরে তার বিরহ বিচ্ছেদে আমি বিশেষভাবে বেদনাবোধ করছিলাম এবং অধীর আগ্রহে তার আগমন প্রতিক্ষায় প্রহর গুণছিলাম। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে প্রিয় পাত্রকে পাশে পেয়ে আনন্দে আত্নহারা হয়ে গেলাম এবং এত দ্রুত আসন ছেড়ে উঠে বন্ধুকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম যে, আমার আমার জামার আস্তিনের ঝাপটা লেগে আলোটা নিভে গেল। বন্ধু! আমার পাশে বসেই আমাকে তিরষ্কার করতে শুরু করল। বললঃ বন্ধু! আমাকে দেখেই আলো নিভিয়ে দিলে কারণ কি? বললামঃ ভাই, দুটো কারণে আলো নিভিয়েছিঃ প্রথম কারন এই যে, তুমি ভিতরে আসার সাথে সাথে আমার মনে হল সূর্য যেন উদয় হয়েছে। তোমার আলোকে ঘর ঝলমল করছে। কাজেই আলো রাখার প্রয়োজন নেই। আর দ্বিতীয় কারনঃ আমার দুটো লাইন কবিতা মনে পড়ে গেলঃ “যদি দেখ হাসি মাখা মুখে প্রিয়জন ঘরে এলো। তারে হাত ঘরে বসাও আদরে আলোটা নিভিয়ে ফেলো।” শিক্ষাঃ মানুষ পুরনো বন্ধুকে পেয়ে আত্নহারা হয়ে যায়। পুরনো বন্ধুকে পেলে হারানো অনেক কথা হৃদয়পটে জেগে উঠে। মনে হয় যেন অমাবশ্যার রাতে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে।

Thursday, April 18, 2019

অপাত্রে দয়ার পরিনাম

অপাত্রে দয়ার পরিনাম..... আরব দেশের একদল দুর্ধর্ষ দস্যু এক গিরিপথের পাশে ঘাঁটি করে থাকত এবং সুযোগ মত পথিকদের কাফেলা আক্রমণ করে লুটতরাজ করত। আশেপাশের বাসিন্দারাও তাদের আক্রমণ ও অত্যাচার থেকে রেহাই পেত না। ফলে সেই গিরিপথ দিয়ে লোক চলাচল এবং বণিকদের ব্যবসা বন্ধ হবার উপক্রম হলো। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের ভয়ে সর্বদা ভীত সন্ত্রস্থ থাকত। বাদশার সেনাবাহিনী যথেষ্ট চেষ্টা করেও তাদেরকেও দমন করতে সমর্থ হল না। কারণ তাদের আশ্রয়স্থল পাহাড়ের ওপরে এমন নির্ভত জংগলের মধ্যে অবস্থিত ছিল, যা খুঁজে বের করা এবং তাদেরকে গ্রেফতার করা সহজ সাধ্য ছিল না। অথচ প্রজাসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার খাতিরে এই দস্যুদেরকে নির্মল করা আশু প্রয়োজন। দেশের চিন্তাশীল নেতৃবৃন্দ ভাবলেন, এভাবে এদেরকে আরো কিছু দিন প্রশ্রয় দিলে এরা আরো শক্তিশালী হবে, তখন এদের মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শ সভা বসল। স্থির হল, একদল অভিজ্ঞ গুপ্তচর তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে তাদের আড্ডা আবিষ্কার করবে। তারপর সাহসী দূরদর্শী এবং সমর কুশল একদল সৈন্য ওদের ঘাঁটির আশেপাশের জংগলে খুব সাবধানে লুকিয়ে থাকবে। যখন ওরা ডাকাতি শেষে ঘাঁটির ফিরবে এবং লুট করা মাল ও আস্ত্রশস্ত্র খুলে রেখে ঘুমিয়ে পড়বে , তখন তারা গুপ্তস্থান থেকে হঠাত ওদেরকে ঘিরে ফেলবে। যেমন কথা, তেমনি কাজ। যথাসময়ে দস্যুদেরকে বন্দী করে রাজদরবারে আনা হলো। বাদশা তাদের সবাইকে হত্যা করার হুকুম দিলেন। দস্যুদের মধ্যে কচি বয়সের একটা ছেলেও ছিল। তার চেহারা ছিল যেমন সুন্দর, স্বাস্থ্যও ছিল তেমনি ভালো। দেখলে মনে হয় ভদ্র পরিবারের সন্তান। ছেলেটার প্রিয়দর্শন চেহারা দেখে একজন মন্ত্রীর প্রাণে স্নেহের সঞ্চার হলো, এমন সুন্দর একটা কিশোর বালককে হত্যা করতে তার মন কিছুতেই সায় দিচ্ছিল না। তিনি বাদশার সামনে নতজানু হয়ে করজোড়ে নিবেদন করলেনঃ জাঁহাপানা! দয়া করে যদি এ ছেলেটার প্রাণ ভিক্ষা দিতেন, তবে বান্দা চিরকৃতজ্ঞ ও বাধিত হত। হুজুরের অনুমতি পেলে আমি তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতাম। মন্ত্রীর সুপারিশে বাদশা বিরক্ত হলেন। তার রাজোচিত মার্জিত বুদ্ধিতে কাজটা সঙ্গত মনে হলো না। কারণ, বংশগত মন্দ স্বভাব সুশিক্ষায় পরিবর্তিত হয় না। তিনি মন্তব্য করলেনঃ “নিচ বংশে জন্ম যার নিচ তার মন, সুশিক্ষায় ভালো তা যে হয় না কখন। অধমের শিক্ষাদান সার্থক না হয়, গম্বুজের পরে যেমন ঢিল নাই রয়।“ এই দুষ্টু বদমায়েশদেরকে সমুলে বিনাশ করাই উত্তম। আগুন নিভিয়ে ফুলকি রেখে দেয়া বা সাপ মেরে তার বাচ্চা পোষা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। মন্ত্রী মহোদয় সবকিছু শুনলেন এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভদ্রতার খাতিরে বাদশার কথা সমর্থন করলেন। বাদশার সুচিন্তিত অভিমতের ভুয়সী প্রশংসাও করলেন। সঙ্গে সঙে এও বললেনঃ হুজুর যা বলেছেন, তা বাস্তব সত্য। দস্যুদলে থেকে ছেলেটা বড় হলে পরিণামে দস্যু হতো। কিন্তু আমার মনে হয়, ছেলেটার একেবারে কচি বয়স। জীবন যৌবনের স্বাধ এখনও পায়নি। কোনও প্রকারের পাপের কালিমা এখনও তার স্বচ্ছ অন্তঃকরণকে মলিন করেনি। ওদের জাতীয় নির্মম হিংস্র স্বভাবের মোহ আজো ওর কচি মনে দাগ কাটেনি। ফেরেশতার মত নিষ্পাপ কোমলমতি বালক। এখন থেকে যদি ওকে সুশিক্ষা দেয়া হয় এবং আমাদের মার্জিত ভদ্র পরিবেশে রেখে ভদ্রতা, মানবতা ও আদব-কায়দা শেখান হয়, তবে নিশ্চয় জ্ঞানী ও চরিত্রবান হবে। সৎ সংগে স্বভাব পরিবর্তনের সময় এখনও তার রয়েছে। হাদীস শরীফে আছেঃ প্রত্যেক শিশু প্রকৃতিগতভাবে সৎ মুসলিম হয়েই ভূমিষ্ঠ হয়। পরে পিতামাতা তাকে নিজ নিজ ধর্মের বিধান শিক্ষা দেয়। বাবা-মা ইহুদি হলে ইহুদি, খ্রিষ্টান হলে খ্রিষ্টান এবং অগ্নি উপাসক হলে অগ্নি উপাসক দলভুক্ত হয়। ভাল লোকের সংশ্রবে থেকে কত মন্দলোক ভালো হয়ে যায়। আবার মন্দ লোকের সংশ্রবে থেকে কত ভালো লোকও মন্দ হয় যায়। “নবীর পুত্র হলো কাফের মিশে সে কাফের সনে, কুকুর সে পেল মানুষের মান সত্যের অনুগমনে।‘ মন্ত্রীমহোদয়ের যুক্তিপূর্ণ মন্তব্য শুনে সভাসদ্গণের অনেকে তার পক্ষ সমর্থন করলেন এবং তার সাথে ছেলেটার মুক্তির আবেদন জানালেন। অগ্যতা বাদশাহ তার দন্ডাদেশ মওকুফ করে দিলেন এবং বললেনঃ আপনাদের অনুরোধে ওকে ক্ষমা করলাম বটে। কিন্তু কাজটা আমার বিবেচনায় সঙ্গত মনে হলো না। কারন জ্ঞানি লোকেরা বলে গেছেনঃ শত্রুকে অক্ষম মনে করে তুচ্ছ করা উচিত নয়। সঙ্কীর্ন পয়ঃপ্রণালী অনেক সময় বিরাট নদীতে পরিণত হতে দেখা গেছে। মন্ত্রীমহোদয় আদর করে ছেলেটাকে বাড়ি নিয়ে এলেন এবং পরম যত্নে প্রতিপালিত করতে লাগলেন। তার সুশিক্ষার জন্য উপযুক্ত শিক্ষক নিযুক্ত করা হলো। ছেলেটা খুব মেধাবী ও হুঁশিয়ার ছিল। নিজ প্রতিভা বলে অল্প দিনের মধ্যে সে লেখাপড়ায় বেশ উন্নতি দেখাতে লাগল। জ্ঞান-বুদ্ধি স্বভাব চরিত্র ও ভদ্র ব্যবহারে সে সবার প্রিয় পাত্র হয় উঠল। শাহী দরবারের আদব-কায়দা ও চালচলনে সে বেশ অভ্যস্ত হলো। একদা মন্ত্রীমহোদয় রাজদরবারে কথা প্রসঙ্গে ওই ছেলেটার গুণকীর্তন করে বললেনঃ সুশিক্ষা ওর ভেতর এমনি তাছির করেছে যে, তার পৈত্রিক অসভ্য স্বভাব একদম দূরীভূত হয়ে গেছে। বাদশা একটু মুচকি হেসে বললেনঃ পরিণামে শৃগাল বাচ্চা শৃগালই রয়, যদিও সে লোকালয়ে সুশিক্ষিত হয়। এভাবে কয়েকটা দিন গড়িয়ে গেল। গতিশীল দুনিয়ার চিরন্তন নিয়মে সেই বালকও যৌবনে পদার্পন করলো। মন্ত্রীর পালক পুত্র হিসেবে সবাই তাকে সমীহ করে চলে। তার বন্ধুবান্ধবেরও অভাব নেই। দেশের ভেতর একদল দুষ্কৃতিকারী ছিল। ওই যুবক গোপনে গোপনে কবে তাদের হাতে হাত মিলিয়েছে তা কেউই টের পায়নি। একদিন সময় সুযোগমত সকল কৃতজ্ঞতার বন্ধন ছিন্ন করে সে তার প্রতিপালক মন্ত্রীকে ও তার উভয় পুত্রকে হত্যা করে তাদের সকল ধনসম্পদ নিয়ে দস্যু দলে ভিড়ে গেল এবং শহর ছেড়ে সেই পাহাড়ের ঘাঁটিতে গিয়ে বাবার স্থান অধিকার করে বসলো। এই সংবাদ শুনে বাদশা আক্ষেপ করে বললেনঃ “নিকৃষ্ট লোহায় কভু হয়না তলোয়ার, ইতর শেখে না কভু ভদ্র ব্যবহার। বরষার বারি ঝরে সর্বত্র সমান, কোথাও আগাছা জন্মে কোথা ফলে ধান। লোনা জমি নেবে নাকো সোনার ফসল, মেহনত যতই কর সকলই বিফল। ভালোদের ক্ষতি করা অন্যায় যেমন, মন্দদের হিত করা দোষের তেমন।‘ শিক্ষাঃ ইবলিসের ঔরষে ইবলিসই জন্ম হয়। সেখান থেকে ফেরেশতা বা মানুষ পয়দা হওয়ার চিন্তা করা যায় না। শত্রুর সন্তান চির শত্রুই হয়, তাকে দুধ কলা দিয়ে পোষা মানে শত্রুকে বলিষ্ঠ করে তোলা। জ্ঞানী লোকেরা কখনও আগুন নিভিয়ে ফুলকি রাখে না অথবা সাপ মেরে তার বাচ্চা পোষে না। পাপী লোকের সন্তানের মধ্যে এক সময় পাপের কালিমার বীভৎস রূপ ফুটে উঠবেই, তাকে সতই সাধু প্রকৃতির লোক মনে হোক না কেন। শুকরের বাচ্চা শুকরই হবে, যতই তাকে পোষা হোক না কেন, সুযোগ পেলে সে মলমূত্রে অবস্থান করবেই।

অন্যায়ের_উৎস । গল্প_ও_বাস্তবতা_বাংলাদেশ_প্রেক্ষাপট

#অন্যায়ের_উৎস #গল্প_ও_বাস্তবতা_বাংলাদেশ_প্রেক্ষাপট বিখ্যাত ন্যায়পরায়ন বাদশা নওশেরোয়া একবার জংগলে হরিণ শিকারে গিয়েছিলেন। হরিণ শিকার করে তার মাংস দিয়ে কাবাব তৈরী করতে হুকুম দিলেন। ঘটনাক্রমে তাদের সঙ্গে লবণ ছিল না। লবণ আনার জন্য এক ভৃত্যকে গ্রামে পাঠানো হলো। বাদশাহ বলে দিলেনঃ খবরদার লবণ যেন দাম দিয়ে কিনে আনা হয়। আমার খাতিরে কেউ যদি খুশি হয়ে দেয়, তবুও বিনা মূল্যে আনবে না। তাতে একটা কুপ্রথা চালু হয়ে যাবে। সঙ্গীরা বললেনঃ সামান্য একটু লবণ আনবেন তাতে কি এমন মারাত্নক ক্ষতি হবে। বাদশাহ বললেনঃ অন্যায়ের ভিত্তি প্রথমত খুব ক্ষুদ্রই থাকে। পরে যে আসে সে একটু বাড়ায়, এমনি করে গোটা দুনিয়া অন্যায়ে ছেয়ে যায়। “রাজা যদি খায় প্রজার গাছের একটি মাত্র কুল, ভৃত্যেরা তার ফেলিবে উপড়ি সেই বৃক্ষের মূল। বাদশা অর্ধেক ডিমও যদি কারো অন্যায় ভাবে লয়। হাজার মুরগি জোর করে নিতে সেনারা পাবে না ভয় শিক্ষাঃ রাজা বাদশাহরা মোবাহ কাজ করলে প্রজা সাধারণ তা ফরযের ন্যায় করার জন্য উতসাহবোধ করে। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোন ছোট গুনাহ করলে সধারণ লোকেরা তা দ্বিগুন উতসাহের সাথে করতে থাকে। তাই তাদের এমন কোন অপরাধ করা উচিত নয়; যা সাধারন মানুষকে পাপের দিকে ধাবিত করে।

আদর্শ_নরপতি । দানশীল_vs_কৃপণতা

#আদর্শ_নরপতি #দানশীল_কৃপণতা এক যুবরাজ পিতার ওয়ারিশসুত্রে বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হয়েছিলোন,অন্যান্য যুবরাজের মত তিনি বিলাসী ও ক্ষমতা প্রিয় ছিলেন না। তার অন্তঃকরণটা ছিল আকাশের মত উদার এবং দয়া মহত্ত্বে ভরপুর। জনসেবা করে মানুষের হৃদয় জয় করাই ছিল তাঁর আদর্শ এবং উদ্দেশ্য। সিংহাসনে বসেই তিনি দান করতে শুরু করতেন। সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে পথের ভাখারী পর্যন্ত সবাইকে তিনি অর্থদান করতেন। অযাচিত দান পেয়ে আপামর জনসাধারন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠল এবং আল্লাহর দরবারে তাঁর মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করতে লাগল। শাহজাদার এক দরবারী ছিলেন ভারী হীনমনা ও অদূরদর্শী। তিনি বাদশাকে বুঝাতে শুরু করলেনঃ আপনার পূর্ব পুরুষেরা কোন মহান উদ্দেশ্যে এই ধনরত্ন সঞ্চয় করে রেখে গেছেন। সেই অর্থ এভাবে অকাতরে ব্যয় করা বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে না। দরবারে দানের হাত একটু খাটো করুন। সামনে বিপদাপদের সম্ভাবনা এবং পেছনে শত্রু রয়েছে। খোদা না করুক, প্রয়োজনের সময় অর্থাভাব দেখা দিতে পারে। মন্ত্রীর এই যুক্তি বাদশার মনঃপুত হল না। তিনি বিরক্ত হয় মন্ত্রীকে তিরষ্কার করে বললেনঃ দয়াময় আল্লাহ দয়া করে আমাকে এই ধনভান্ডারের মালিক করেছেন এই জন্য যে, আমি নিজে খাব অপরকে খাওয়াব। আর দীন দরিদ্রদেরকে দান করে দুঃস্থ মানবতার সেবা করবো। এগুলো শুধু পাহারা দেব সে জন্য দেয়া হয় নি। শিক্ষাঃ জ্ঞানী ব্যক্তিরা সম্পদ হাতে আসলে অকাতরে দান করতে থাকেন। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেন না। আল্লাহপাক সম্পদ দিয়েছেন, তা থেকে তারা গরীব-দুঃখীদেরকে বিতরণ করতে থাকেন। হীনমনা ব্যক্তিরা উক্ত দান সহ্য করতে পারে না।

Monday, March 25, 2019

একটি বক্তব্য এবং অনেকগুলো কৌশল। A speech and How to deliver speech in first time...

একটি বক্তব্য এবং অনেকগুলো কৌশল ১. নিজে ভাল করে বিষয়টি সর্ম্পকে জানা । ২. অংশগ্রহনকারী কারা তাদের সর্ম্পকে তথ্য সংগ্রহ করা (কারা থাকবেন, বয়স, কাজ, পেশা ইত্যাদি জানা) । ৩. সময় বিভাজন করা : আপনি যেখানে যতো কম সময় বা যতো বেশি সময় নিয়েই করেন না কেন আপনি যদি নিচের ছক অনুযায়ী আপনার বক্তব্যের সময়টুকু বিভাজন করে নেন তাহলে আপনি আপনার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেমন বক্তব্য শেষ করতে পারবেন তেমনি আপনি আপনার একটি পরিপূর্ণ বক্তব্য রাখতে পারবেন । একটি পরিপূর্ণ বক্তব্য যেমন শ্রোতা শুনতে পছন্দ করেন ঠিক তেমনি অনুষ্ঠানের মাধুর্য অনেক বাড়িয়ে তোলে । সবচেয়ে বড় বিষয় হলো একজন বক্তা একটি পরিপূর্ণ বক্তব্য রাখার পর নিচে অনেক পরিতৃপ্তি লাভ করে যা তার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয় যা পরবর্তীতে আরো ভাল বক্তব্য রাখতে অনুপ্রেরনা হিসাবে কাজ করবে । ​​ ৪. জড়তা বিমোচন : অংশগ্রহনকারীদের সাথে বক্তব্যের শুরুতেই যোগাযোগ তৈরী করা । অংশগ্রহণকারীদের সাথে যতো তাড়াতাড়ি এবং যতো মজবুতভাকে আপনি যোগাযোগ তৈরী করতে পারবেন আপনার বক্তব্য ততো বেশি মনোযোগ দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা শুনবে । যোগাযোগ যতো দুর্বল হবে আপনার বক্তব্য ততো বেশি বিরক্তিকর মনে হবে অংশগ্রহনকারীদের কাছে । ৫. নিচের নিয়ম অনুযায়ী মুল বক্তব্যের প্রস্তুতি নেয়া – জানাতে হবে : জানতে হবে বলতে এখানে আসলে বোঝানো হয়েছে যে, যে বিষয়গুলো অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই জানতে হবে । অংশগ্রহণকারীরা আপনার কাছ থেকে জানার জন্য অপেক্ষা করছে । একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, আপনাকে যখন বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়েছে তার মানে, আপনার কাছ থেকে অবশ্যই অংশগ্রহণকারীরা এবং আয়োজকরা আশা করেন যে আপনার কাছ থেকে অবশ্যই জানার কিছু আছে এখানে অবশ্যই আপনাকে সেই ভুমিকায় অবতীর্ন হতে হবে অন্যথায় আপনার কনফিডেন্স লেভেল কমে যাবে । যা আপনার বক্তব্যের সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দিতে পারে । – জানালে ভাল: মুল বক্তব্য বলা শেষ হলে এর পর প্রাসঙ্গিক আরো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে আপনার মুল বক্তব্যকে বুঝতে এবং মনে রাখতে সহযোগীতা করবে । এটা অনেকটা কেকের ডেকোরেশন এর মতো কাজ করে, মুল কেক এর অংশ বানানোর পর এটাকে সুন্দর ডেকেরেশন করা হয় যাতে এটা দেখতে সুন্দর হয় এবং এটার খাওয়ার জন্য একটি লোভ কাজ করে ঠিক তেমনি জানলে ভাল এ বিষয়ে অতিরিক্ত যে বিষয়গুলো আলোচনা করা হয় তা মুল বিষয়কে মনে রাখতে সহযোগীতা করে । – জানলে ক্ষতি নেই : এটা হচ্ছে কেক এর সাথে একটি মোমবাতির মতো । যা কেকটিকে পরিপূর্ণ হতে সাহায্য করে । বক্তব্যের এ অংশটি ঠিক তাই এ অংশে যেটুকুই আলোচনা করা হবে তা বক্তব্যকে আরো বেশি করে পরিপূর্ণ করে তুলবে । এখন হয়তো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সব সময়ই কি কেক এর সাথে মোমবাতি অনিবার্য । অবশ্যই না । সাধারনত জন্মদিনের সময়ই যেহেতু মোমাবাতিতে ফু দিয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন করা হয় এটা একটি প্রচলিত রীতি । জন্মদিন ছাড়াই অনেক সময় আমরা নানা ধরনের কেক ব্যবহার করে থাকি যেখানে মোমবাতির কোন ভুমিকা নেই । ঠিক তেমনি বক্তব্য রাখার আগে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনি যে বক্তব্যটি যে অনুষ্ঠানে রাখবেন সেটা কি জন্মদিনের অনুষ্ঠান মানে জন্মদিনের কেক নাকি সাধারন কোন অনুষ্ঠান মানে মোমবাতি ছাড়া কোন কেক খাওয়ার অনুষ্ঠান । ৬. নোট : সুন্দর পরিচ্ছন্ন বক্তব্য রাখার জন্য প্রয়োজন হলে হাতের কাছে নোট রাখতে পারেন । তবে চেষ্টা করা উচিত নোট না নিয়েই বক্তব্য রাখার । কিন্তু নোটও রাখলাম না আবার আমি যে বিষয়টি বলতে চাচ্ছি সেটা মনেও করতে পারছি না এমন না হওয়াই বাঞ্চনিয় । তাই প্রয়োজন হলে অবশ্যই নোট রাখতে হবে । ৭. আপনার বক্তব্যের মধ্যে নতুন কিছু শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করুন । তবে যেটার অর্থ যাতে সবাই বুঝতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে । ৮. এমন কিছু তথ্য উপাত্ত ব্যবহার করুন, যা সহজে বোধগম্য এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়, যাতে করে অংশগ্রহণকারীরা আপনার বক্তব্যকে যথার্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন । যেদিন বক্তব্য দিবেন সেদিনকার পত্রিকা বা ম্যাগাজিন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে । ৯. নিজের উদাহরন যতোদুর সম্ভব কম ব্যবহার করবেন । দুই একটি সফলতা/চ্যালেঞ্জ/শিক্ষনীয় ঘটনার কথা বলা যেতে পারে । ১০. বক্তব্য রাখার সময় অবশ্যই এমনভাবে বক্তব্য রাখতে হবে যাতে সকল অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন যে তাদের সকলের উদ্দেশ্য করে আপনি বক্তব্য রাখছেন । কোন বিশেষ অংশগ্রহনকারী/দের দিকে লক্ষ করে বা বিশেষ দিকে তাকিয়ে বক্তব্য না দেয়া ভাল । ১১. সম্ভাষন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন : বক্তব্যের শুরুতে এবং শেষে অবশ্যই উপস্থিত অতিথি এবং অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাষন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা ভাল তবে সেটা যতো ছোট হয় ততোই ভাল । তবে খেয়াল রাখতে হবে আপনি যে সম্ভাষন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন তার মধ্যে কোন অতিথি বা অংশগ্রহণকারী বাদ না পড়ে তাহলে আবার অনেকে এটাকে ভাল চোখে দেখতে নাও পারে । ১২. যেভাবেই হোক আপনি আপনার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার চেষ্টা করুন । এছাড়াও প্রত্যেক বক্তার তার নিজ নিজ কৌশল রয়েছে বক্তব্য উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে । এখানে বক্তব্য প্রস্ততির জন্য একটি ধারনা দেবার চেষ্টা করেছি মাত্র । বিশেষ করে যারা নতুন, নতুন বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য রাখছেন বা রাখার প্রয়োজন হয়ে পড়ছে ।

Friday, March 1, 2019

চীনা বাঁশ | অনুপ্রেরণামূলক গল্প | Chinese Bamboo | Inspirational Story

চীনা বাঁশ | অনুপ্রেরণামূলক গল্প | Chinese Bamboo | Inspirational Story| খুব মজার গল্প.............. আমাদের দেশে আমরা এই যে গ্রামে গেলেই বাঁশঝাড় দেখি, এগুলো হতে কিন্তু খুব বেশি সময় লাগে না, মোটামুটি দ্রুতই বেড়ে ওঠে বাঁশগুলো। চীনা বাঁশের ক্ষেত্রে কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও এরকম না! চীনা বাঁশের কাহিনী টা একটু আলাদা। ধরো তুমি একটা চীনা বাঁশের বীজ বপন করলে। এরপর তোমাকে সেই বাঁশটাকে পানি দিতে হবে, সার দিতে হবে, অনেক যত্নআত্তিও করতে হবে। এখানেই শেষ নয়, নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে তার, পাশাপাশি অন্যান্য কাজগুলোও নিয়মিত করতে হবে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এতো কিছু করার পর দেখা যায় প্রথম বছরে চারার নামগন্ধ নেই, সেটি বাড়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। প্রথম বছর যায়, দ্বিতীয় বছর আসে। এ বছরেও কোনরকম লক্ষণ দেখা যায় না। তৃতীয় বছরেও যখন দেখা যায় না কোন সম্ভাবনা, অনেকেই মনে করতে থাকে বীজটা মরে গেছে। বাঁশ হবার সম্ভাবনা নেই। এই করেই একেবারেই নিষ্ফল চতুর্থ বছরও যখন যায়, তখন মোটামুটি সবাই আশা ছেড়ে দেয় বাঁশ হবার। চমক দেখা যায় এর পরপরই। চতুর্থ বছরের শেষে দেখা গেল ছোট্ট একটা চারার মত উঠেছে সেইখান থেকে। পরের দিন থেকেই তুমি দেখলে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে চীনা বাঁশগুলো! এক ফিট, দুই ফিট করতে করতে দেখা গেল ৫ সপ্তাহে বাঁশ থেকে ৯০ ফুটি দানব বাঁশে পরিণত হয়েছে চীনা বাঁশগুলো! একেবারে হাল ছেড়ে দেয়ার অবস্থা থেকে রাতারাতি এই অস্বাভাবিক উন্নয়ন একটু ভাবার বিষয়ও বটে। বাঁশ গাছ থেকে এই শিক্ষাটা আমাদের জীবনেও নেয়া যেতে পারে। কিভাবে? এই পাঁচ বছরে চীনা বাঁশ কিন্তু থেমে থাকেনি, তারা মাটির তলে শক্ত ভিত গড়ে তারপরেই মাথা তুলে দাড়িয়েছে। জীবনে এই জ্ঞানটা কাজে লাগাতে পারলেই কেল্লাফতে! এই বাঁশ থেকেই জীবনের দরকারি ৩টা শিক্ষা নেয়া যায়। ১। সবকিছুর শুরু সেই ভিত্তি থেকেই: চীনা বাঁশগুলো কিন্তু একেবারেই বড় হয়ে যায় নি। কারণ মূল শক্ত না হলে ৯০ ফুটি একটা বাঁশ দাঁড়াতেই পারবে না, এইজন্যে পাক্কা ৫ বছর ধরে এটি শুধুমাত্র মাটির তলে নিজের মূল-শেকড় ঠিক করেছে। আর ঠিক এই কারণেই যত ঝড়-ঝাপটা আসুক, যে দুর্যোগই হোক, চীনা বাঁশ টিকে থাকবে স্বমহিমায়! অন্যদিকে অন্য সাধারণ বাঁশের মত হলে সেগুলোর মত চীনা বাঁশও সহজে ভেঙ্গে পড়তো। আমাদের জীবনটাও অনেকটা এরকমই। জীবনে আমরা দুই ধরণের সাফল্যের পেছনে ছুটতে পারি। দ্রুত এবং ক্ষণিকের বা শর্ট টার্ম সাফল্য, আর বিলম্বিত বা লং টার্ম সাফল্য। শর্ট টার্মে তুমি বেশ সফল হয়ে যেতে পারো, কিন্তু তোমার এই সাফল্য বেশিদিন থাকবে না। অন্যদিকে লং টার্ম হতে অনেক সময় নিলেও, দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য নিশ্চিত! তাই নিজেকে গোড়া থেকে তৈরি করো, নিজের বেসিক ভালো করে তারপর নিজেই এগিয়ে যেতে থাকো সাফল্যের দিকে। ২। ছোট ছোট ধাপে এগিয়ে যাও: চীনা বাঁশগুলো কিন্তু রাতারাতি বিশাল বড় হয়ে যায় নি। তারা সময় নিয়েছে, এবং একটা সময়ে এসে এগুলো বড় হয়েছে। টানা ৫ বছর ধরে ছোট ছোট ধাপে এরা নিজেদের মূলের উন্নতি করেছে, সেগুলোকে ধারণক্ষম করেছে। তারপরই না এদের সগর্ব আত্মপ্রকাশ! আমাদের জীবনটাও এমনই। তুমি চাইলেই হুট করে বিশাল কোন সাফল্য পেয়ে যেতে পারো না। সময় লাগবে, শ্রম আর ভাগ্যের সহায়তাও লাগবে। তাই তুমি যে কাজে ভালো, যা নিয়ে তোমার আগ্রহ আছে- সেটি তুমি তোমার মত করে ছোট ছোট ধাপে করতে থাকো, উন্নত হও। একটা সময়ে দেখবে তুমিও সেই চীনা বাঁশের মত বিশাল মহীরুহ হয়ে উঠছো! ৩। অধ্যবসায়, ধৈর্য, বিশ্বাস: চীনা বাঁশ যখন ৪ বছরেও হচ্ছিল না, তখন অনেকেই হতাশ হয়ে আর যত্ন আত্তি করে নি বাঁশের। তাদের মনে বিশ্বাস ছিল না, তারা ভেবেছিল এই গাছ মরে গেছে। কিন্তু আর একটা বছর পরে যে একটা মহীরুহ জন্মাবে সেই ছোট্ট জায়গাটিতে, সে খবর তারা জানতো না। যারা কঠোর অধ্যবসায়ের সাথে দিনের পর দিন গাছের যত্ন নিয়েছে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে- তারাই বিশাল বাঁশের মালিক হতে পেরেছে। আমাদের জীবনেও এই তিনটি গুণের খুব বেশি দরকার। তুমি জীবনে সফলতার মুখ সহজে না-ও দেখতে পারো, হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে থাকতে পারো। কিন্তু তাতে যদি হাল ছেড়ে দাও তাহলে কোন লাভ নেই। অধ্যবসায় দেখাও, লেগে থাকো যে কাজটি ভালোবাসো তার পেছনে। একটু ধৈর্য ধরো, নিজের উপর বিশ্বাস রাখো- সাফল্য আসবেই! চীনা বাঁশের গল্পটি শুধু গল্প নয়, জীবন বদলে দেয়ার মতো একটি অনুপ্রেরণা এটি। আশা করছি সবাই মিলে চেষ্টা করবো সুন্দর ও সফল জীবন গড়ার!